বাজার–মূল্যস্ফীতি ভোগাচ্ছে মানুষকে

দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া দামে সাধারণ মানুষের জীবন আজ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আয় বাড়েনি, কিন্তু চাল–ডাল–তেল থেকে শুরু করে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার।মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সরকার প্রথম তিন মাসের মধ্যে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়।

রমজানকে সামনে রেখে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং বাজার তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতায় এখনো তার প্রতিফলন স্পষ্ট নয়।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অভিযান দিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘব হবে না।

উৎপাদন, আমদানি, সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে মুক্তি মিলবে না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারি জরুরি হলেও তা এখনো প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যমান নয়।সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, বাজার স্থিতিশীল করা এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, কারণ এর সঙ্গে সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী ও নীতিগত সমন্বয় না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর তথ্যে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশ।

চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ভয়াবহভাবে সংকুচিত হয়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে, যা সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে গভীর উদ্বেগের বিষয়।সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম তিন মাসই হবে বড় পরীক্ষা। এই সময়ের মধ্যেই যদি বাজারে স্বস্তি না ফেরে, তবে মানুষের ক্ষোভ ও দুর্ভোগ আরও বাড়বে। দৃশ্যমান অগ্রগতি এলে আস্থা তৈরি হবে, আর ব্যর্থ হলে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনে আরও গভীর সংকট ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *