নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ ই ফেব্রুয়ারি
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হাজির হন সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুন নাহারসহ কয়েকজন শিক্ষক।
রবিবার বেলা ২টার দিকে শহরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।অধ্যক্ষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু আহসান কবীর, সহযোগী অধ্যাপক জাকির হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক মামুন রশীদ, শরীরচর্চাবিষয়ক শিক্ষক মোহাম্মাদ ইব্রাহিম ও গ্রন্থাগারিক শাহ মোয়াজ্জেম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মামুন রশীদ, মোহাম্মাদ ইব্রাহিম ও শাহ মোয়াজ্জেম সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে শহরের তিনটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। মুন্সীগঞ্জ জেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সভাপতি মোহাম্মদ মাসুদ খান তার ফেসবুক পেজে ছবি পোস্ট করে লেখেন, নবনির্বাচিত এমপির জন্য বিএনপি পার্টি অফিসে ফুল নিয়ে গেছেন হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা। তার পোস্টে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে জনপ্রতিনিধিকে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিয়ে। অনেকের দাবি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচনের সময় পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট এমপির প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন।
যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও ভোট-পরবর্তী সময়ে দলীয় কার্যালয়ে প্রকাশ্য উপস্থিতি সেই সন্দেহকে উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উন্নয়ন বা প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা নিয়ে দেখা করার প্রয়োজন হলে তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হওয়াই সমীচীন। দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। রাকিব হাসান রিকন নামে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, শিক্ষার অবকাঠামো ও মান উন্নয়নে সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করা যৌক্তিক ও ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে, তবে সেটি কলেজ প্রাঙ্গণেই হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে, সনাকের সাবেক এক জেলা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গিয়ে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় শোভনীয় নয় এবং এটি নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুন নাহার বলেন, কলেজের কিছু সমস্যা, বিশেষ করে ছাত্রদলের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যেই তিনি গিয়েছিলেন। তার দাবি, সংসদ সদস্য নিজেই তাকে দলীয় কার্যালয়ে যেতে বলেছেন এবং প্রথম সাক্ষাৎ হওয়ায় সৌজন্যবশত ফুল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন রয়ে গেছে যদি বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক হয়, তাহলে সেটি কি নিরপেক্ষ ও সরকারি পরিবেশে করা যেত না? নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের আচরণ কেবল দায়িত্ব পালনের সময় নয়, পরবর্তী সময়েও জনমতের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর সেই আচরণ যদি রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।

