ডেস্ক রিপোর্ট | ১৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভের পর সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দলটির পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ ১৩টি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ নয় এটি আঞ্চলিক বাস্তবতার স্বীকৃতিও বটে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত-কে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব; ফলে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসারে এই আমন্ত্রণ স্বাভাবিক হলেও এর রাজনৈতিক প্রতীকী অর্থ আরও গভীর।
তবে এখানেই তৈরি হয় একটি রাজনৈতিক দ্বৈততার প্রশ্ন। অতীতে, বিশেষ করে ২০২১ সালের মার্চের শেষ দিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা-র আমন্ত্রণে মোদীর বাংলাদেশ সফর ঘিরে সহিংসতা সৃষ্টি করেছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তখন আন্দোলনের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনের অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে, যারা “ভারতীয় আধিপত্যবাদ”-এর বয়ানকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সেই ইতিহাস এখন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
আজ যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নেই এবং একই আমন্ত্রণ বিএনপির পক্ষ থেকেই পাঠানো হচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা কি বিরোধী রাজনীতির বক্তব্যকে পুনর্নির্ধারণ করে? দিল্লিমুখী কূটনীতি একসময় যে রাজনৈতিক আপসহীনতার বিরুদ্ধে স্লোগানে রূপ নিয়েছিল, তা এখন রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের ভাষায় রূপান্তরিত হচ্ছে কিনা সেটিই পর্যবেক্ষণের বিষয়। আমন্ত্রণপত্র পৌঁছাবে দিল্লি-তে; কিন্তু দেশের ভেতরে এই মৌলবাদী দল গুলো কিভাবে নেয় সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষত, তারেক রহমান-এর বহুল উচ্চারিত স্লোগান-
“দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ” যার প্রতীকী লক্ষ্য ছিল ভারত এবং পাকিস্তান নির্ভর ভূরাজনীতি থেকে মুক্ত একটি সার্বভৌম অবস্থান, তা এখন নতুন প্রেক্ষাপটে মূল্যায়িত হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের আদর্শিক অবস্থান এই দুইয়ের সমন্বয় কতটা সম্ভব, সেটিই আগামী সময়ের রাজনৈতিক পরিমাপক হয়ে দাঁড়াবে।

