গুঞ্জন উঠেছে রাতেই দেশ ছাড়ছেন ঢাবি ভিসি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ করেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।তবে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। ফলে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। এরপর ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।নিয়োগের শুরু থেকেই তিনি বিতর্কের মধ্যে ছিলেন। উপাচার্য পদে আবেদনকালে তার জমা দেওয়া প্রায় ৩৬ পৃষ্ঠার সিভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দীর্ঘ সিভি নজিরবিহীন এবং অনেকেই একে নিজেকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়নের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলমান। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।তাকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেয় সদ্য অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন। অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্বাচনে তিনি পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেন এবং শিবির-সমর্থিত একটি প্যানেলকে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী করতে সহায়তা করেন।পদত্যাগের পর ডাকসু ভিপি পদের এক পরাজিত প্রার্থী ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন,“নির্বাচনের আগে তার পদত্যাগ রহস্যজনক। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার অনিয়ম ও অপকর্ম প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কাতেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।”এদিকে, অনানুষ্ঠানিক সূত্রে শোনা যাচ্ছে- অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান খুব শিগগিরই, এমনকি আজ রাতেই দেশত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।পদত্যাগের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, ডাকসু নির্বাচন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *