নিজস্ব প্রতিবেদক | ইনফো বাংলা

ক্ষমতার রদবদল রাজনীতির একটি স্বাভাবিক নিয়ম হলেও ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে একের পর এক নজিরবিহীন ও নির্মম ঘটনার সূচনা ঘটে চলেছে। মব সন্ত্রাসের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার যোগ হয়েছে জামিনের পর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা। চিকিৎসাসেবার অভাব এবং প্রকোষ্ঠের ভেতরে অমানুষিক মানসিক নির্যাতনে ভেতরে ভেতরে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন কারাবন্দী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা, যার সবশেষ শিকার হয়েছেন চাটগাঁর মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম।

খেটে খাওয়া ও সাধারণ পরিবারের সন্তান নুরুল ইসলামকে আটকের পর ৩১ আগস্ট মহামান্য আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। কিন্তু মুক্তির আলো দেখার আগেই অন্য আরেকটি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বারবার জামিনের আশাজাগানিয়া পরিবেশ তৈরি করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পুনরায় বন্দী করার এই প্রক্রিয়াতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এর কিছুদিন পরেই কারাগারে চিকিৎসাধীন বা অবহেলার মধ্যে মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত এই রাজনৈতিক কর্মী। ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বন্দীশালায় তার ওপর অমানুষিক মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং একজন অসুস্থ বন্দীর জন্য ন্যূনতম যে মানবিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উপার্জনক্ষম একমাত্র অভিভাবককে হারিয়ে অবোধ্য অবহেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে তার অবোধ ছোট ছোট সন্তানগুলো।

নুরুল ইসলামের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর মতো সান্ত্বনার ভাষাও আজ রাজনৈতিক আঙিনায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু কেবল তিনি একা নন; ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে আটক বন্দীরা ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং তাদের ওপর এই মনস্তাত্ত্বিক বলপ্রয়োগের প্রভাব পড়ছে পরিবারের ওপরও। ৭ নম্বর কাটাছড়া ইউনিয়নের তারিফ খানের মা ছেলে জেলে থাকা অবস্থায় মানসিক উদ্বেগে অসুস্থ হয়ে মারা যান। একইভাবে দুর্গাপুরের রাজিব খান, জোরারগঞ্জের ইমন খান এবং মিঠানালার শেখ খোকন বন্দিদশায় মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুক্তি পাওয়ার পরও শারীরিক ও মানসিকভাবে তারা কারাগারের নিপীড়নের ক্ষত বহন করে চলছেন।

ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সুবিচারের যে দাবি তোলা হয়েছিল, আইনের সঠিক শাসন না থাকায় আজ তা চরম সংকটে। আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলত্রুটি বা অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা ‘কালার রেভুলেশন’ বা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তৈরি হয়েছিল, বর্তমান চিত্র তার ঠিক বিপরীত সাক্ষ্যই দিচ্ছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এ সত্য মেনে নিয়ে রাজনৈতিক অন্ধত্ব ও মতাদর্শিক হিংসা পরিহার করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত সুশাসন ও প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারাবন্দীদের মানবাধিকার রক্ষা ও বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনগুলোতে দেশের রাজনীতিতে সূচনা হওয়া এই কালো অধ্যায়ের দায় ইতিহাস বা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কাউকেই ক্ষমা করবে না।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version