টিবিএস রিপোর্ট
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে বুকের দুধ পায়নি। এছাড়া টিকা নেওয়ার বয়স হওয়া সত্ত্বেও এক ডোজ টিকাও না পাওয়া ৯৭ শতাংশ শিশুর শরীরেই হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৩৫৪ জন হামে আক্রান্ত শিশুর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান যৌথভাবে গবেষণার এসব ফলাফল তুলে ধরেন। গবেষণায় স্পষ্ট করা হয়, দেশে ছড়িয়ে পড়া এই হামের কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়; বরং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অত্যন্ত সংক্রামক ‘বি৩’ ধরন এবং শিশুদের অপুষ্টি, টিকাদানের ঘাটতি ও মাতৃদুগ্ধের অভাবই এর মূল কারণ।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশই কোনো না কোনো মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ শিশু তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ শিশু মাঝারি ধরনের অপুষ্টিতে আক্রান্ত। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ শিশু প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে বুকের দুধ পাননি। ৩ মাস থেকে ৯ মাস বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স না হওয়ায় ৪৩ শতাংশ শিশু এই বয়সের মাঝেই আক্রান্ত হয়েছে।
বয়স ও টিকাদানের হারের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা গবেষণায় দেখা গেছে:
- টিকার বয়স হয়নি (৯ মাসের কম): ১৪৬ জন সন্দেহভাজন শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের (৯৭.৩%) হাম নিশ্চিত হয়েছে।
- টিকার বয়স হলেও কোনো ডোজ পাননি: ১২৬ জন শিশুর মধ্যে ১২২ জনের (৯৭%) হাম শনাক্ত হয়েছে।
- এক ডোজ টিকা প্রাপ্ত: ৪৮ জন শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের (৯২%) সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
- দুই ডোজ টিকা প্রাপ্ত: হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ জন শিশুর মধ্যে ১৬ জনের (৭৬%) হাম শনাক্ত হয়েছে।
দুই ডোজ টিকা পানের পরও আক্রান্ত হওয়ার পেছনে অ্যান্টিবডির কার্যকারিতা হ্রাস, অপুষ্টি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ালেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। ২০২৪ সালের টিকাদান প্রক্রিয়ায় নীতিগত গাফিলতির কারণেই এই অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হওয়ায় দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯২২ জনে।

