বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া নাটকীয় পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে সচেতন মহলে চলছে নানা আলোচনা। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পটপরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি এখন সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এবং নেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরাশক্তিগুলোর অবস্থান এখন অনেকটাই এক বিন্দুতে এসে মিলেছে। অতীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানামুখী সমীকরণ থাকলেও, বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে শেখ হাসিনার আপসহীন অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
পশ্চিমা গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ ২১ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের ভূখণ্ড, প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা কৌশলগত সুবিধা বিদেশি শক্তির কাছে বিকিয়ে দেওয়ার কোনো আপস তিনি কখনো করেননি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দেশের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর এই অনমনীয় ও দেশপ্রেমিক অবস্থান বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে নাজুক দশা তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোও বুঝতে পেরেছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এবং বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। আর এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হলো বহুত্ববাদ এবং ক্ষমতার সঠিক ভারসাম্য। সংসদীয় গণতন্ত্রের সফল চর্চার জন্য সরকারি দলের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি অনস্বীকার্য। অতীতে দেশের যেকোনো বড় সংকটে আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় মুনশিয়ানা দেখিয়েছে।
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও টালমাটাল প্রশাসনিক অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, শান্তি এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান এবং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করে, দেশের যেকোনো বড় দুর্যোগ ও ক্রান্তিলগ্নে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশের মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে। বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে বাঁচাতে এবং উগ্রবাদের উত্থান রোধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই বললেই চলে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় এবং একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে জনআকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্থিতিশীলতাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
