নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬
সব ধরনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও প্রাণনাশের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান।
কারাবাস, গ্রেপ্তার কিংবা জীবননাশের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী এই নেতা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে বলেন:
“আমাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে, কিংবা কারাগারেও পাঠানো হতে পারে—আমি আমার পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। তা সত্ত্বেও আমি নিজ দেশে ফিরতে চাই, কারণ আমার দেশের মানুষ আজ আমাকে ডাকছে।”
২০২৪ সালের আগস্টে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। ভারতে অবস্থানের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সেখানে তিনি সম্পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রয়েছেন এবং নিজ দেশে ফেরার এই সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর নিজের। প্রত্যর্পণ বা অন্য কোনো চাপ এখানে ভূমিকা রাখেনি।
রাজনীতি বা ক্ষমতায় ফেরার চেয়ে জনগণের কল্যাণকেই তিনি সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন:
“ক্ষমতা কখনো আমার মূল লক্ষ্য ছিল না, মানুষের সেবাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য।”
রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের অধিকার ও সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা তিনি বজায় রেখেছেন।
সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপ্রিয় ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়ে গভীর মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, প্রিয়জন হারানো প্রতিটি পরিবারের জন্য তাঁর হৃদয়ে গভীর সমবেদনা রয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো একক কোনো বিষয় নয়, বরং উদ্ভূত কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা উচিত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলেও তিনি সবসময় দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সর্বোচ্চ ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।
