কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার বরুড়ায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১০) বলাৎকারের অভিযোগে আতিক উল্লাহ নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি ঠেকাত গিয়ে ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উপপরিদর্শকসহ (এসআই) অন্তত ৮ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আড্ডা বাজার সংলগ্ন ‘ফয়জুনে মদিনা মডেল মাদ্রাসা’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়জুনে মদিনা মডেল মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাতে খাবারের পর সব শিক্ষার্থী ঘুমিয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক আতিক উল্লাহ তাকে এবং অন্য এক শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা কার্যালয়ে ডেকে নেন। একপর্যায়ে অপর শিক্ষার্থীকে পাঠিয়ে দিয়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন ও অনৈতিক আচরণ চালান ওই শিক্ষক। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

বুধবার সকালে শিশুটি ঘটনাটি প্রকাশ করলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বরুড়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক আতিক উল্লাহকে হেফাজতে নেয়।

শিক্ষককে বরুড়া থানা-পুলিশের ভ্যানে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যরা জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে অভিযুক্তকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে চরম বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বরুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিশন চৌধুরীসহ অন্তত ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে বরুড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরও দুই যুবককে আটক করে। আহত পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

থানা হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক আতিক উল্লাহ বলাৎকারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে কেবল শরীর ম্যাসাজ (টিপিয়ে) করিয়েছিলাম। তবে এমনটা করা আমার ভুল হয়েছে।”

বরুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার জানান, শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন,

“অভিযুক্ত শিক্ষককে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও পৃথক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version