বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা ১৬ জুলাই, ২০২৬
গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস স্মরণে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেশের আপামর জনগণ। আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের শতাধিক স্থানে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্ল্যাকার্ড হাতে রাজপথে নামতে শুরু করেন। দুপুরের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মূল সমাবেশটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে গোপালগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং এর নেপথ্যের কুশীলবদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
শুধুমাত্র ঢাকাতেই নয়, তীব্র প্রতিবাদের এই হাওয়া লেগেছে দেশের প্রতিটি কোণায়। ঢাকার বাইরে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরসহ শতাধিক জেলা ও উপজেলায় একযোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: যে মাটিকে কেন্দ্র করে এই দিবস, সেখানে আজ মানুষের ঢল নেমেছিল। কালো ব্যাজ ধারণ করে হাজার হাজার মানুষ শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজপথে নেমে আসেন।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহী: বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম এবং বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে বিশাল গণমিছিলের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
খুলনা ও সিলেট: তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে দুপুরের পর থেকেই নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ মিছিলে যোগ দেন।
“এই স্বতঃস্ফূর্ত গণমিছিল প্রমাণ করে যে, বাংলার মানুষ অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। রক্তের দাগ মুছে ফেলার চেষ্টা কখনো সফল হবে না।” — কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা
সারাদেশের এই বিক্ষোভ মিছিলগুলো থেকে একটিই মূল দাবি জোরালোভাবে উঠে এসেছে—গোপালগঞ্জ গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না দেশের শান্তিকামী জনগণ।
সারাদেশে আজকের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি; অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ কিন্তু বজ্রকঠিন ভাষায় জনগণ তাদের প্রতিবাদ জানিয়ে দিয়েছে।

