নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশজুড়ে চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার মাঝে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাটে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় তীব্র ভোগান্তির মধ্য দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও, অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথানিয়মে চলায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, টানা বর্ষণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকা ও দেশের বেশ কিছু অঞ্চলের প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় পরীক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে নোংরা পানিতে ভিজে, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, পানির নিচে থাকা গর্ত বা ম্যানহোলে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, যার ফলে নষ্ট হচ্ছে তাদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র।
পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা এমনিতেই শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় একটি মানসিক চাপের জায়গা। পরীক্ষার হলের অজানা ভয় তো থাকেই, তার ওপর এই নোংরা পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া এবং পরীক্ষা শুরুর আগেই সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। এই অবস্থায় তাদের পক্ষে সুস্থ মস্তিষ্কে পরীক্ষা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, প্রশাসনের এমন গাফিলতি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতার দায় কেন শিক্ষার্থীদের নিতে হবে? বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা কয়েকদিন পিছিয়ে দেওয়া কেন সম্ভব হলো না, তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকেরা মনে করছেন, শুধু পরীক্ষা শেষ করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা এবং অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এমন বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও ফলাফলকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

