নিজস্ব প্রতিবেদক | ইনফো বাংলা
টানা বর্ষণ, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যা যেকোনো সময় আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে। তবে দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বড় বিপত্তি হয়ে দাঁড়ায় মানুষের অসতর্কতা। অসাবধানতার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব, সাপের কামড় কিংবা আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু মানুষ প্রাণ হারান। বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, বন্যার সময়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিচের ১০টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি:
১. অপ্রয়োজনে বন্যার পানিতে নামা: অনেকেই কৌতূহলবশত বা বিনা প্রয়োজনে বন্যার পানিতে নেমে পড়েন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
২. পানিতে দাঁড়িয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা: বন্যার পানিতে দাঁড়িয়ে বৈদ্যুতিক সুইচ, ছেঁড়া তার বা কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী স্পর্শ করা যাবে না; এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুহূর্তেই মৃত্যু ঘটতে পারে।
৩. বন্যার পানি পান বা রান্নায় ব্যবহার করা: বন্যার পানি মারাত্মকভাবে দূষিত থাকে। এই পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার না করে পান করলে কিংবা রান্নার কাজে ব্যবহার করলে পানিবাহিত রোগ ছড়ায়।
৪. খালি পায়ে পানিতে হাঁটা: খালি পায়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাফেরা করলে পায়ে ক্ষত, ইনফেকশন কিংবা পানিতে লুকিয়ে থাকা কাচ বা বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই রাবারের বুট বা শক্ত স্যান্ডেল ব্যবহার করা উচিত।
৫. বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাওয়া: পানিতে ভিজে যাওয়া, দূষিত হওয়া বা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খেলে ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।
৬. শিশুদের একা পানির কাছে যেতে দেওয়া: ঘরের আশপাশে পানি জমলে শিশুরা খেলতে পছন্দ করে। কিন্তু সামান্য গভীর পানিতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বিধায় শিশুদের সবসময় বড়দের কড়া নজরদারিতে রাখতে হবে।
৭. সাপ বা বন্যপ্রাণী ধরার চেষ্টা করা: শুকনো জায়গার খোঁজে সাপ, গুইসাপসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রাণী এ সময় মানুষের বসতবাড়িতে আশ্রয় নেয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজে সাহসিকতা দেখাতে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
৮. পানিতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানো: পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা না বুঝে যানবাহন চালানোর ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়। এতে গাড়ি আটকে যেতে পারে বা স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৯. প্রশাসনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা: অনেকেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের ঘরবাড়ি ছাড়তে চান না, যা বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় প্রশাসন বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত।
১০. পানি নেমে গেলেই তাড়াহুড়ো করে ঘরে ঢোকা: বন্যার পানি সরে গেলেও ঘরে ভেজা বৈদ্যুতিক তার, গ্যাস লিক, ধসে পড়ার মতো দুর্বল দেয়াল কিংবা বিষাক্ত সাপের উপস্থিতি থাকতে পারে। তাই ঘর ভালোভাবে পরীক্ষা না করে প্রবেশ করা নিরাপদ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে: বন্যা পুরোপুরি ঠেকানো না গেলেও একটু সতর্কতা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে নিজের পাশাপাশি পরিবারকেও নিরাপদ রাখা যায়। সিডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী—বন্যার দুর্যোগে বীরত্ব বা সাহস দেখানোর চেয়ে নিয়ম মেনে সতর্ক থাকাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
