নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
রাজশাহী: পরীক্ষার খাতায় প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটার মানসিক গ্লানি ও চরম হতাশা কেড়ে নিল এক তরুণী এইচএসসি পরীক্ষার্থীর প্রাণ। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের গুনাজিপাড়া গ্রামে পরীক্ষা খারাপ হওয়ার ক্ষোভে দিশা রানী মহন্ত (২০) নামের এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১২ জুলাই) বেলা ২টার দিকে নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত দিশা রানী মহন্ত গুনাজিপাড়া গ্রামের দ্বিজেন্দ্রনাথ মহন্তের মেয়ে। তিনি পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার দ্বিতীয়বারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফেরেন দিশা। তবে পরীক্ষা আশানুরূপ না হওয়ায় তাঁর চোখে-মুখে বিষাদের ছাপ ছিল। বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সবার অগোচরে নিজের শোবার ঘরের তীরের (আড়া) সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনরা ঘরে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দিশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীর এমন চরম সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত মানসিক চাপ ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। দিশার চাচা প্রশান্ত কুমার জানান, গত বছর আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই দিশা মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিল। লোকলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানি তাকে তাড়া করে ফিরছিল। এবার সে নতুন উদ্যমে পরীক্ষায় অংশ নিলেও আশানুরূপ পরীক্ষা দিতে পারেনি। পরীক্ষা খারাপ হওয়ার পর পুনরায় অকৃতকার্য হওয়ার ভয় ও তীব্র মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। একটি পরীক্ষা কীভাবে একটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা ভেবে দিশার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে এখন শোকের মাতম চলছে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে পরীক্ষা খারাপ হওয়ার ক্ষোভ ও হতাশা থেকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
