নিজস্ব প্রতিবেদক | 

তুরাগ নদী থেকে নিখোঁজ তিন ছাত্রলীগ কর্মীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাবেক মন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান, গত ২২ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত মিছিলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সংঘাতময় পরিস্থিতির পর থেকেই স্থানীয় ৭ জন নেতা-কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। আজ তুরাগ নদী থেকে নিখোঁজদের মধ্যে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ অবশিষ্ট ৪ জনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে মহিবুল হাসান চৌধুরী আরও দাবি করেন, দেশজুড়ে বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও দেশের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যম ও সুশীল সমাজ এখনো আশানুরূপ ভূমিকা পালন করছে না।” একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন কারাগারেও নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

নেতা-কর্মীদের মনোবল শক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কোনো ধরনের প্রতিকূলতা তৈরি করে এই রাজনৈতিক ধারাকে স্তিমিত করা যাবে না। তিনি অবিলম্বে তুরাগ নদীর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

এদিকে, লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্জ্জিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, মামলা এবং সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা নানামুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা ব্যক্তিগত অবস্থানে থাকা নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তুরাগ নদীর এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি দেশব্যাপী চলমান এই ধারাবাহিক সহিংসতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংঘাতের পর নেতা-কর্মীদের আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে নদী বা নির্জন স্থানে লাশ পাওয়ার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারই হচ্ছেন না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও তাঁদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী ও সমর্থকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের শাসন বজায় রাখতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই তাগিদ দিয়ে আসছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version