নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :

রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগের আরও দুই নেতাসহ মোট পাঁচজনকে অপহরণ ও গুম করার দাবি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন—তুরাগ থানা ছাত্রলীগের কর্মী আরিফুল এবং ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী বিপ্লব। অন্যদিকে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন তুরাগ থানা শ্রমিকলীগের নেতা মামুন এবং ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কর্মী সুমন। নিখোঁজ অপর তিনজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ একটি মিছিলের আয়োজন করে। অভিযোগ উঠেছে, ওই মিছিল থেকে ফেরার পথে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একটি অংশ দলবদ্ধভাবে (মব) আরিফুল ও বিপ্লবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর লাশ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পর, ২৪ জুন ভোরে তুরাগ নদীতে দুই যুবকের লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত ও নিখোঁজদের পরিবার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের ঘটনার পেছনে স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন: আবুল মাতবর (সাংগঠনিক সম্পাদক, তুরাগ থানা বিএনপি),রাশেদ খান সুজন (সভাপতি, ধউর আশুতিয়া ইউনিট বিএনপি),মামুন পারভেজ তন্ময় (তুরাগ থানা যুবদল),জাকির হোসেন অর্ণব (তুরাগ থানা ছাত্রদল),হাজী জহিরুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক, তুরাগ থানা বিএনপি),খোকা ভূঁইয়া (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, তুরাগ থানা জাতীয়তাবাদী দল),সফিক ইসলাম (সভাপতি, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি),বাবুল হোসেন (সাংগঠনিক সম্পাদক, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি)

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল হোসেন মাতবর এবং খোকা ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে এই মব লিঞ্চিং বা পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

একই দিনে অপহরণ ও পূর্ববর্তী হামলার দাবি

অভিযোগকারীরা আরও জানান, ২২ জুনের একই কর্মসূচি থেকে তুরাগ থানা শ্রমিকলীগের মামুন এবং ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সুমনসহ আরও ৫ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের পরিবারের দাবি, উপরে উল্লেখিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডার বাহিনীই তাদের গুম করে রেখেছে।

এর আগে, গত ২৩ জুন মামুন পারভেজ তন্ময় ও জাকির হোসেন অর্ণবের নেতৃত্বে রাব্বি হাজারী নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকেও একইভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপর নির্যাতন শেষে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

জোড়া লাশ উদ্ধার এবং ৫ জন নিখোঁজ থাকার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে তুরাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই, নিখোঁজদের উদ্ধার এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version