নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
খুলনার কয়রা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ প্রাইমকোট ছাড়াই পিচ ঢালাই এবং কাজের গুণগত মানে ত্রুটির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে উপজেলার উত্তর মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ কেয়ার অভিমুখী সড়কে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। তবে এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে পিচ উঠে গেছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত গাইডওয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রাইমকোট ছাড়াই এবং রাস্তার ওপর জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করেই পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ফলে মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেওয়া পিচও সহজেই উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাজ করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পিচ ঢালাইয়ের সময় প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উত্তর মাদারবাড়িয়া সীমানা থেকে রোনবাগ কেয়ার সড়ক এবং হড্ডা-বেদকাশী সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রকল্পটি পুনর্বিন্যাস (রিপ্যাকেজিং) করে হড্ডা-বেদকাশী সড়ক বাদ দেওয়া হয় এবং উত্তর মাদারবাড়িয়া থেকে রোনবাগ কেয়ার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য নতুন সময় ও সংশোধিত বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান সরদার, আল আমিনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, পাথরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, প্রকল্প এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই বিলের বড় একটি অংশ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল ফারুক জাফরিন বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় স্থানীয়রা কাজে বাধা দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ তদারককারী (সাব-ঠিকাদার) হাসান শেখ বলেন, যথাযথভাবে প্রাইমকোট করা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ধুয়ে গেছে। ১৮ মাইল এলাকার একটি প্ল্যান্ট থেকে মিশ্রণ এনে কাজ করা হচ্ছে। যেসব স্থানে ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন, রাস্তার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিটুমিনের রাস্তা পুরোপুরি জমাট বাঁধতে কিছু সময় লাগে। কিছু অংশে প্রাইমকোটের পরিমাণ কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ত্রুটিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুনরায় প্রাইমকোট করে ঢালাই দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

