নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২৩ জুন, ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি, কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের শতাধিক স্থানে এসব সংক্ষিপ্ত ও ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। তবে এই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি দলের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শতাধিক স্থানে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুরসহ দেশের ৬টি জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট)।
ডিএমপি এবং অন্যান্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নাশকতার আশঙ্কা রুখতে আগে থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার ছিল। মিছিলের চেষ্টা চলাকালীন বেশ কিছু স্থান থেকে কয়েকজনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে দলের তৃণমূলের কয়েকজন নেতা জানান, শত বাধা, গ্রেফতার আতঙ্ক এবং বৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন থেকে পিছিয়ে যাননি। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও প্রশাসনের কড়াকড়ি উপেক্ষা করেই রাজপথে তাদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দলের আদর্শিক ভিত্তি এখনো তৃণমূলে অটুট রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দলটির কার্যক্রমে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে।
