নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল):
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ষাটোর্ধ্ব এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং পরবর্তীতে মৃতদেহকেও পুনরায় ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনার তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম। গত শুক্রবার ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের দেউলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী নারীর প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়। ঘাটাইল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বামীর মৃত্যুর পর উপজেলার দেউলাবাড়ি গ্রামে নিজের বাড়িতে একাকী বসবাস করছিলেন ওই নারী। তার এক ছেলে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবারসহ সিলেটে থাকেন এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। গত বছরের ২৩ আগস্ট হঠাৎ নিখোঁজ হন তিনি।
নিখোঁজের দুদিন পর ২৬ আগস্ট বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত কুয়া থেকে খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় আনোয়ারা নামের ওই নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় চরম চাঞ্চল্য, শোক এবং তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করলে তদন্তে নামে ঘাটাইল থানা পুলিশ। স্থানীয় তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুলকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দির বরাত দিয়ে ঘাটাইল থানার এসআই রাজু আহমেদ জানান, গত বছরের ২৩ আগস্ট সকালে ওই নারী সাইফুলকে গাছের ডাল কেটে দেওয়ার জন্য ডাকেন। গাছে উঠে ঘরের ভেতরে ওই নারীকে কাপড় পরিবর্তন করতে দেখে সাইফুলের মধ্যে কুনজর তৈরি হয় এবং সে দ্রুত নিচে নেমে আসে। এরপর নারীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে তাকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করে সাইফুল। পরবর্তীতে তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করা হয় এবং একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রথমে মরদেহটি গাছের ডালপালা দিয়ে ঢেকে রেখে নারীর কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায় সে। এরপর রাত গভীর হলে সাইফুল আবারও ঘটনাস্থলে ফিরে আসে এবং ডালপালা সরিয়ে মৃতদেহকে আরও একবার ধর্ষণ করে। বিকৃত এই অপরাধ শেষে মরদেহটি টেনে-হিঁচড়ে দেউলাবাড়ি এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের পরিত্যক্ত কূপে ফেলে খড়কুটো দিয়ে লুকিয়ে রেখে সে এলাকা ছেড়ে পালায়।
ভয়াবহ ও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসী ঘাতক সাইফুলের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছেদুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে সাইফুলের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হলে সে বিজ্ঞ বিচারকের খাস কামরায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
