নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাঙালি মানসে সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের চেতনা জাগানো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ (১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে)। যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে কবিকে স্মরণ করা হচ্ছে। এ বছর কবির জন্মজয়ন্তীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘‘জাতীয় জীবনে নজরুল-চেতনার প্রাসঙ্গিকতা’’।
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান কবি। তাঁর ক্ষুরধার লেখনী একদিকে যেমন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাঙালিদের উজ্জীবিত করেছিল, অন্যদিকে তাঁর প্রেম ও আধ্যাত্মিক গান মানুষের হৃদয়কে করেছে আপ্লুত।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, নজরুল ইনস্টিটিউট, কবি পরিবার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কবির বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি, বিশেষ করে ‘নজরুল গীতি’ ও তাঁর কালজয়ী কবিতার ওপর বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য গণমাধ্যমেও কবির জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নজরুল কেবল অতীতের কোনো কবি নন, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অন্তহীন অনুপ্রেরণার উৎস। শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন কণ্ঠস্বর এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বাণী বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে নজরুলের সাহিত্য এক আলোর দিশারী।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং তাঁকে ‘জাতীয় কবি’র মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট এই মহান কবি ঢাকায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
