নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। কুয়াকাটার লতাচাপলী ইউনিয়নের দিয়ারআমখোলা পাড়া জামে মসজিদের ইমাম বেল্লাল হোসেনের (২৮) বিরুদ্ধে মক্তবে পড়তে আসা শিশুদের ওপর ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে লম্পট এই ইমামকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইমাম বেল্লাল দীর্ঘ দিন ধরে মক্তবে পড়তে আসা শিশুদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিশুদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ইমামের এমন কর্মকাণ্ড ধরার জন্য ওৎ পেতে ছিলেন। অবশেষে শনিবার সকালে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত ইমামকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমান জানান, “ভুক্তভোগী এক শিশুর অভিভাবক বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার খবরে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসী জানান, যিনি শিশুদের নৈতিকতা শেখানোর কথা, তিনিই তাদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম জানান, “অভিযুক্ত বেল্লাল হোসেন বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave A Reply

Exit mobile version