স্টাফ রিপোর্টার | ফেনী
ফেনীতে ঝটিকা মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তাদের দুজনেরই বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি।
অথচ, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে ফেনী সরকারি কলেজের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়। এ সময় আসামিরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে কয়েকজন পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তাররা হলেন— দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের মধ্যম কুশুল্ল্যা গ্রামের মজু মিয়ার ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান (১৮), একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আসিফ হাসান এবং ওহিদুর রহমানের ছেলে আমজাদ হোসেন আকাশ।এর আগে মঙ্গলবার ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের এ সংক্রান্ত তৎপরতার বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।তবে গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজনের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী আসিফ হাসানের জন্ম ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ১৭ বছর ২ মাস ২৪ দিন। অন্যদিকে, কারাগারে পাঠানো আমজাদ হোসেন আকাশের জন্ম ২০০৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি।
সেই হিসেবে তার বয়স ১৭ বছর ৩ মাস ৮ দিন। কিন্তু পুলিশের তৈরি মামলার নথিতে তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।‘অপ্রাপ্তবয়স্কদের’ প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা নিজেরাই তাদের বয়স ১৮ বছর বলেছে। সেই অনুযায়ী মামলার এজাহার প্রস্তুত করা হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর এখন পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বয়স কম বলে দাবি করা হচ্ছে।
তদন্তে যদি তাদের বয়স কম প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শিশু অপরাধী হিসেবে প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং সেটির সুযোগ রয়েছে।এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, আটক তিন ছাত্রলীগকর্মীকে কোন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সেটি তার জানা নেই। তিনি মন্তব্য করেন, হয়তো বা বয়সের যথাযথ প্রামাণিক তথ্য না পাওয়ায় তাদেরকে এভাবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে তদন্তকালীন তাদের বয়সের প্রমাণক যাচাই-বাছাই করে বয়স কম পাওয়া গেলে শিশু আসামি হিসেবে দেখানো হবে।
