নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামালবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় অবশেষে ধরা পড়ল মূল হোতারা। আত্মগোপনে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র রামপাল উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাজেদুর রহমান জুয়েল ও অন্যতম সক্রিয় সদস্য সোহানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই দুই রাজনৈতিক নেতাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রামপাল পাওয়ার প্লান্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মালামাল বোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এই দুর্ধর্ষ চুরির পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা বাগেরহাটের ফকিরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পরপরই চতুর জুয়েল ও সোহান এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে র্যাব তাদের অবস্থান কক্সবাজারে শনাক্ত করে এবং সৈকত এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল ও সোহান দীর্ঘদিন ধরে রামপাল ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লান্টকেন্দ্রিক মালামালবাহী ভারী যানবাহনে ছিনতাই, এলাকার ঠিকাদারদের জিম্মি করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই ছিনতাই ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের পেছনে এনসিপির জেলা পর্যায়ের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার হাত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এ বিষয়ে ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই আসামিকে কক্সবাজার থেকে যৌথ প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়। পরে কক্সবাজার থানা পুলিশ হয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাগেরহাটে নিয়ে আসে। আজই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
র্যাব জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে জড়িত বাকি সদস্যদের ধরতে এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
