নিজস্ব প্রতিবেদক, ইনফো বাংলা

​বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান রাজনীতি নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনার এক নতুন বার্তা দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে নানা চড়াই-উতরাই এবং সমসাময়িক পরিস্থিতির ধাক্কা সত্ত্বেও তিনি বিচলিত নন। বরং সাকিব মনে করেন, গত দেড়-দুই বছরের অভিজ্ঞতা তাকে রাজনীতিতে আরও বেশি পরিপক্ব করেছে এবং এই অঙ্গনে কাজ করার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

​সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। রাজনীতিতে আসা নিয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘না, আমার মনে হয় ঠিক ছিল, ঠিক আছে, ঠিকই থাকবে। আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না; ১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর পরে মনে হয় যে সেটাই ঠিক ছিল।’

​সাকিব মনে করেন, ভক্ত ও সাধারণ মানুষ তার খেলোয়াড়ি পরিচয় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যকার পার্থক্যটি অনেক সময় গুলিয়ে ফেলেন। নিজের নির্বাচনী জয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ বারবার ভুলে যায় যে আমি একটা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। ক্রিকেট খেলার সময় আমি সারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি, কিন্তু রাজনীতিতে এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি। অনেকে এই পার্থক্যটা করতে পারেন না।’

​দেশের রাজনীতি নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা বদলানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করে রাজনীতি খারাপ জিনিস। কিন্তু রাজনীতি ছাড়া কোনো কিছু বদলানো সম্ভব নয়। রাজনীতি কীভাবে খারাপ হয় তা আমি বুঝি না; এখানে তো মানুষের সেবা করার সবচেয়ে বড় সুযোগ আছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, আগে তিনি ভাবতেন সিদ্ধান্ত নিলেই হয়তো সিস্টেমের অনেক কিছু বদলে ফেলা সম্ভব, কিন্তু এখন তার উপলব্ধি হলো—পরিবর্তনের জন্য আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

​রাজনীতিতে আসা জনপ্রতিনিধিদের মানসিকতা নিয়ে সমালোচনা করে সাকিব বলেন, ‘আমরা যাদের নির্বাচিত করি, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা সেবা করার চেয়ে সেবা নিতে বেশি পছন্দ করেন। নিজেদের লাভের জন্য রাজনীতিতে আসেন। অথচ যারা সেবা করতে আসতে চান, আমরা অনেক সময় তাদের সুযোগ দিই না।’ যেকোনো দলের প্রতি নাগরিকের সমর্থন থাকাকে ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে কেউ রাজনীতি করতে পারেন, এটাতে রাইট-রংয়ের কোনো বিষয় নেই। যে খারাপ কাজ করবে তাকে শাস্তি পেতে হবে, তবে এটাও নিশ্চিত করা উচিত কেউ যেন বিনা কারণে না ভোগে।’

​দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বর্তমান যোগাযোগ প্রসঙ্গে সাকিব জানান, এখনও অনেকের সঙ্গেই তার যোগাযোগ আছে। তবে রাজনীতির দায়বদ্ধতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশে ফেরাকে নেতা-কর্মীরা কীভাবে দেখছেন, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, ‘সেটা আসলে আমার পক্ষে বলা মুশকিল। ওনারাই ভালো জানবেন।’

​সাকিবের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধাক্কা খেয়ে দমে না গিয়ে রাজনীতিতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার এই প্রত্যয় সাকিবের পরবর্তী রাজনৈতিক সফরের এক নতুন ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Leave A Reply

Exit mobile version