নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৪ মে, ২০২৬
চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানল ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাসলিম উদ্দিন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত রেশমি আক্তার চট্টগ্রামের ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে রেশমি ছিল সবার ছোট। তার বাবা রিয়াজ আহমেদ পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। ছোট মেয়েকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে। রেশমির মা সখিনা বেগম তাকে পাশের দোকান থেকে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন। সেই সময় বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলিতে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে মোহাম্মদ হাসান রাজু নামে এক যুবক খুন হন। ওই একই ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি গুলি রেশমির চোখে বিদ্ধ হলে সে গুরুতর আহত হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এর আগে গত ৮ মে রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেশমিকে দেখতে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সে সময় তিনি শিশুটির সুচিকিৎসার তদারকি করেন এবং আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।’ তবে প্রশাসনের আশ্বাসের মাঝেই চিরতরে চোখ বুজলো নিষ্পাপ এই শিশুটি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও শোক বিরাজ করছে।
