নিজস্ব প্রতিবেদক |
ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর সীমান্তবর্তী নির্জন এক কলাবাগান। সেখানে একটি কুকুরকে একাগ্রচিত্তে মাটি খুঁড়তে দেখে খটকা লাগে এক নারীর। কৌতূহলবশত কাছে যেতেই নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ, আর মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে থাকতে দেখেন মানুষের পায়ের গোড়ালি। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করে এক নারী ও এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ফরিদপুর সদরের চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বগেরটিলা সীমান্তবর্তী ইখলাস মাতুব্বরের কলাবাগান থেকে এই মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা কুলসুম বেগম বিকেলে তার ছাগল চরাতে কলাবাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখেন একটি কুকুর বাগানের এক কোণে মাটি খুঁড়ছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি কাছে যান। এসময় পচা লাশের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে এবং মাটির নিচ থেকে মানুষের পায়ের অংশ বেরিয়ে আসতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও ফরিদপুর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মাটি খুঁড়ে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক নারী ও ৪ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকায় মরদেহ দুটি প্রায় পচে বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।
“মরদেহ দুটি ফরিদপুরের সীমানার মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আমরা প্রাথমিক তৎপরতা চালিয়েছি, তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত ফরিদপুর সদর থানা পুলিশ সম্পন্ন করবে।” বলে জানিয়েছেন মো. সফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), গোয়ালন্দ ঘাট থানা।
উদ্ধারকৃত নারী ও শিশুর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য নির্জন এই কলাবাগানে তাদের মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের ধরতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

