নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৩ মে, ২০২৬
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তার মরদেহ মিরসরাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয় এবং এরপর তিনি জামিনে মুক্ত হন।
তার জানাজার বিষয়ে সাবেদুর রহমান সুমু জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা হবে না। তবে ঢাকায় একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার স্থান ও সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি ১৯৬৬ সালে লাহোর থেকে খনিজ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৬৪ সালে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। লাহোরে অবস্থানকালেই তিনি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি মিরসরাই আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি চট্টগ্রামের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে সম্মুখ নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে তার এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি একাধিকবার চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
