নেত্রকোনায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ধর্ষিত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘৃণ্য অপরাধের প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গত ৬ মে ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে র্যাব গ্রেফতার করলেও ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী ওই শিশুর শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসার পর পরীক্ষা করে জানা যায় সে অন্তঃসত্ত্বা। ভিক্টিমের প্রাথমিক জবানবন্দি অনুযায়ী, তার এই পরিস্থিতির পেছনে মাদ্রাসার ওই শিক্ষক সরাসরি জড়িত। ঘটনা জানাজানি হওয়ার আগে থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। পলাতক অবস্থায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ঘটনার দায় মেয়ের নানার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে র্যাবের অভিযানে শেষ রক্ষা হয়নি তার।
ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই একটি বিশেষ মহল কওমি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষকদের ভাবমূর্তি রক্ষার অজুহাতে অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষককে দায়মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ‘শিবির’ নিয়ন্ত্রিত কিছু পেজ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ডিএনএ টেস্টে নাকি মেয়ের নানার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
তবে সচেতন মহল ও নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন যেখানে ভিক্টিম নিজে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং এখনো আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়নি, সেখানে এই ধরনের ভুয়া তথ্য কীভাবে ছড়ানো হচ্ছে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, গর্ভের শিশুর ডিএনএ টেস্ট এত দ্রুত করা এবং তার ফলাফল প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব।
এই বিতর্কিত আগুনে ঘি ঢেলেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। একটি ভুয়া ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টকে সত্য দাবি করে তিনি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন যে, ওই শিক্ষককে নাকি ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে এবং এতে ভিক্টিমের নানা জড়িত।
সালমান মুক্তাদিরের এমন ভিত্তিহীন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন: আইনি সংস্থা বা আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই কোন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি অভিযুক্তকে ‘নির্দোষ’ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন? একজন পেইড কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তিনি কি টাকার বিনিময়ে কোনো বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে ধর্ষণ অভিযুক্তকে বাঁচানোর “ব্যবসা” খুলে বসেছেন?
সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গত ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা দাবি করছেন। নেত্রকোনার এই ঘটনায় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং গুজবের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার এবং সচেতন নাগরিক সমাজ দাবি জানিয়েছেন, যেন কোনো প্রকার গুজব বা রাজনৈতিক প্রভাবে এই মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত না হয় এবং প্রকৃত অপরাধী লম্পট শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
