নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজনীতিতে আবারও তোলপাড়! আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদের একটি সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে সরিয়ে একটি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বা পুনর্গঠিত দল তৈরি করতে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এল যখন দেশের রাজনীতি এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। ড. শাম্মীর এই স্বীকারোক্তি কি তবে আন্তর্জাতিক কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত করছে? মার্কিন প্রস্তাব: শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগকে নতুন করে সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
নেত্রীর আপসহীন অবস্থান: ড. শাম্মী সাফ জানিয়ে দেন, গঠনতান্ত্রিক কাউন্সিল ছাড়া দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন অসম্ভব।
ডিপ স্টেট ও ষড়যন্ত্র: আন্তর্জাতিক ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য ক্ষমতাধর গোষ্ঠী কি আওয়ামী লীগকে ভেঙে দুর্বল করতে চায়?
নেপথ্য যোগাযোগ: প্রকাশ্যে বাধা থাকলেও পশ্চিমা কূটনীতিকদের সাথে আওয়ামী লীগের ‘আনঅফিসিয়াল’ আলোচনা অব্যাহত।
শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে কেন একটি বিশেষ গোষ্ঠী দল পুনর্গঠন করতে চায়, তার উত্তর লুকিয়ে আছে তার অসামান্য সাফল্যে। গত দেড় দশকে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা অনেকের জন্যই ছিল ঈর্ষণীয়:
অর্থনৈতিক রূপান্তর: তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা মুছে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা।
মেগা প্রজেক্টের কারিগর: নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল এবং কর্ণফুলী টানেলের মতো অসম্ভবকে সম্ভব করা।
দারিদ্র্য বিমোচন: অতি দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
বৈশ্বিক নেতৃত্ব: জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মানবিক সংকট (রোহিঙ্গা) মোকাবিলায় তিনি হয়ে উঠেছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া সরকারগুলো প্রায়ই জাতীয়তাবাদী এবং শক্তিশালী জনভিত্তি সম্পন্ন নেতাদের সরিয়ে তাদের অনুগত দুর্বল নেতৃত্ব বসানোর চেষ্টা করে। ড. শাম্মীর বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা অনেক সময় আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক হিসাবের সাথে মেলেনি।
একটি সুসংগঠিত দলকে নেতৃত্বশূন্য করে তাকে কয়েকটি উপদলে বিভক্ত করাই হলো ‘ডিপ স্টেট’-এর পুরোনো কৌশল। ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ মূলত সেই বিভাজন তৈরিরই একটি মোড়ক মাত্র।
শেখ হাসিনাকে ‘মাইনাস’ করার এই প্রস্তাব আসলে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যদিও বর্তমানে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বিদেশি কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সাথে বসতে ইতস্তত বোধ করছেন, তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ থেমে নেই। ড. শাম্মী আহমেদ স্পষ্ট করেছেন যে, ব্রিটিশ হাই কমিশনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সেই আলোচনার নির্যাস সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ড. শাম্মী আহমেদের এই সাহসী প্রকাশ প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগকে ভেতর থেকে ভাঙার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তবে শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের সাথে তার নাড়ির টান এই ষড়যন্ত্র কতটুকু সফল হতে দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

