ঢাকা | বিশেষ ডেস্ক :
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিনের শাসন শেষে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর পরাজয়ের খবরে ওপার বাংলার পাশাপাশি এপার বাংলাতেও বইছে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার ঢেউ।
তবে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের মাঝে দেখা যাচ্ছে বিশেষ উচ্ছ্বাস। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের খুনিদের আশ্রয় এবং তিস্তা ইস্যু নিয়ে মমতার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে অনেক বাংলাদেশীই এই ফলাফলকে দেখছেন একটি ‘নৈতিক বিজয়’ হিসেবে।বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ দীর্ঘ ২০ বছর এবং অপর খুনি মোসলেহ উদ্দিন প্রায় ৩৬ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বহাল তবিয়তে আত্মগোপন করেছিল।আন্তর্জাতিক চাপ এবং ইন্টারপোলের রেড এলার্ট থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের প্রাদেশিক সরকার তাদের খুঁজে বের করতে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। এত দীর্ঘ সময় খুনিদের অবস্থান শনাক্ত করতে না পারাকে মমতার সরকারের চরম গাফিলতি বা পরোক্ষ প্রশ্রয় হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তার পানি বণ্টন।
ভারত সরকার বিভিন্ন সময় এই চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী হলেও বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মমতা ব্যানার্জী।”তিস্তার পানি না দেওয়া ছিল মূলত শেখ হাসিনাকে নিজ দেশের জনগণের সামনে ছোট করার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল।”অনেকে মনে করেন, মমতার এই একগুঁয়েমি অবস্থান আসলে পাকিস্তান ও চীনের কূটনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে কাজ করেছে। বাংলাদেশকে পানিবন্দী রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির যে লক্ষ্য পাকিস্তান বাহিনীর ছিল, মমতা ব্যানার্জী প্রাদেশিক ক্ষমতায় থেকে পরোক্ষভাবে সেই গেইমেরই অংশ হয়ে উঠেছিলেন বলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।আজকের নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো খুশির জোয়ারে ভাসছে।
নেটিজেনদের মতে, প্রতিবেশী দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বদলে যারা শত্রুতাকে প্রশ্রয় দেয়, তাদের পরিণতি এমনই হওয়া উচিত।বিশেষ করে “পাকিস্তানি মানসিকতা” সম্পন্ন রাজনীতির অবসান ঘটেছে উল্লেখ করে অনেক ব্যবহারকারী একে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মমতা ব্যানার্জীর এই পতন কেবল একটি রাজনৈতিক পরাজয় নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের ন্যায্য পাওনা এবং আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের এক নতুন দিগন্ত। এখন দেখার বিষয়, নতুন নেতৃত্বের অধীনে তিস্তা পানি বণ্টন এবং অপরাধীদের দমনে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ কতটা আন্তরিকভাবে কাজ করতে পারে।
