কুয়াকাটা (পটুয়াখালী): দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে শুরুতেই চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে পর্যটন কেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে রাজপথ। তাদের দাবি—বর্তমান এই বিতর্কিত কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখা তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ
দল থেকে ইতিপূর্বে বহিষ্কৃত অন্তত তিনজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। বর্তমান পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক করায় গঠনতান্ত্রিক জটিলতা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সমাবেশে ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ সিকদার বলেন, “যিনি ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন, তাকে যুবদলের পদে বসানো হয়েছে। এটি দলের আদর্শের চরম পরিপন্থী।”
অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর** বলেন,”যোগ্যতা মেনেই কমিটি হয়েছে। সবাইকে তো আর পদ দেওয়া সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ দ্বৈত পদের বিষয়টিকে ‘সাংগঠনিক নিয়ম’ বলে দাবি করলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘গুপ্ত কমিটি’ পুনর্বিবেচনা করা না হলে তারা গণপদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
এর আগে গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই ৭১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করেন। এতে **সৈয়দ মো. ফারুক সভাপতি ও মো. জহিরুল ইসলাম মিরন সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন।

