নিজস্ব প্রতিনিধি :
“আমরা পরাজিত হওয়ার জন্য জন্মাইনি। আমি আবার ফিরব গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি ফিরব জনগণের শক্তিতে।” বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘এই সময় অনলাইন’-এ প্রকাশিত এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকারে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২৩ জুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চলমান নির্যাতন এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন তিনি।
শেখ হাসিনা তাঁর সাক্ষাৎকারে দলের দীর্ঘ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা স্মরণ করে বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ শাসকের অনুকম্পা, বিদেশি শক্তির প্রশ্রয় কিংবা ক্ষমতার মোহে জন্ম নেওয়া কোনও দল নয়। আওয়ামী লীগ বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে থাকা একটি অনুভূতির নাম।” ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ‘৬৬-র ছয় দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ— প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও আওয়ামি লিগের ত্যাগের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কে বাইরে রেখে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন করা হয়েছে, তাতে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই দেশবিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আজও আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দলকে নীরব করার চেষ্টা চলছে।”
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দেন যে, তারা কোনো দলীয় বাহিনী নয়, বরং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাজনৈতিক নির্দেশে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা ক্ষমতার অপব্যবহার।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোনও সরকার বা ক্ষমতাই স্থায়ী নয়; জনগণই চিরস্থায়ী। অন্যায় নির্দেশ পালন করে কেউ ইতিহাসের দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।”
দলের কঠিন সময়ে প্রবাসী শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমার অনুপস্থিতি নীরবতা নয়। আমি দূরে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আছি, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীর ত্যাগ, সাহস ও বেদনার সঙ্গে আছি।” আন্তর্জাতিক জনমত গঠন, কূটনৈতিক ও আইনি পথে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
শেষে দেশের সব গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য, আমার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য।”
৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভয়কে জয় করে, বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকিত পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।

