ডেস্ক রিপোর্ট | ঢাকা
৪ মার্চ: ১৯৭১ সালের মার্চ মাস—বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। ১ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আকস্মিকভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পূর্ববাংলা। সেই ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ ছিল প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও প্রতিরোধের আরেকটি উত্তাল দিন।
৩ মার্চ ছাত্রসমাজের ডাকে স্বাধীন বাংলার ইশতেহার পাঠের পর ৪ মার্চ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-এর নেতাকর্মীরা মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে অসহযোগ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। রাজধানী ঢাকার রাজপথে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় বিক্ষোভে। সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কর্মচারীরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর দৃঢ় ও আপসহীন নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ পেতে থাকে। ৪ মার্চ তিনি দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে আলোচনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর নির্দেশনাই রাজপথের আন্দোলনকে একক লক্ষ্য—স্বাধীনতার দিকে—অগ্রসর করে।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কিছু স্থানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। জনমনে তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সংগ্রাম আর কেবল অধিকার আদায়ের নয়, বরং স্বাধীনতার জন্য।
অগ্নিঝরা মার্চের প্রতিটি দিনই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ। ৪ মার্চের ঘটনাবলি বাঙালির ঐক্য, সাহস ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থাকে আরও দৃঢ় করে। এই ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ ধরেই পরবর্তীতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা আসে এবং শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।
