আন্তর্জাতিক দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (Corruption Perceptions Index–CPI) অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। এই সূচক প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)।প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ১০০-এর মধ্যে ২৪ স্কোর পেয়েছে। একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অবস্থান করছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও প্যারাগুয়ে। স্কোরের ভিত্তিতে উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম।মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর কার্যালয়ে সিপিআই–২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ইফতেখারুজ্জামান।প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর ৮৯ স্কোর নিয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক। অন্যদিকে মাত্র ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।বাংলাদেশের এই নতুন করে অবনমনের পেছনে একাধিক অভ্যন্তরীণ কারণ দায়ী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত মুহাম্মাদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং আইনের অপব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে কার্যকর রাজনৈতিক জবাবদিহি ভেঙে পড়াও দুর্নীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সংকটই বাংলাদেশের দুর্নীতি সূচকে এই ধারাবাহিক অবনতির মূল কারণ বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
দুর্নীতির সূচকে ক্রমাগত অবনমন: আরও এক ধাপ পিছিয়ে ১৩তম স্থানে বাংলাদেশনিউজ

