অনলাইন ডেস্ক
আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে যে অভূতপূর্ব অশান্তি, মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ঝড় বয়ে গেছে—তারই প্রতিফলন দেখা গেল কারাগারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাসে প্রথমবার কারাবন্দিদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও, মোট প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন (প্রায় ৭%) ভোট দিয়েছেন। ফলে ৯৩% বন্দি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি—যা স্পষ্ট বয়কটের চিত্র।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ৬ হাজার ৩১৩ জন বন্দি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও ত্রুটির কারণে বৈধ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন। বাকিরা ভোট না দিয়ে বয়কট করেছেন। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তার হওয়া বন্দিদের (যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী) মধ্যে ভোটে অংশগ্রহণের আগ্রহ ছিল না।
আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ও সূত্রগুলো জানিয়েছেন, এই বয়কটের পেছনে মূল কারণ হলো—৫ আগস্টের পর থেকে দেশে যে অরাজকতা চলছে। মিথ্যা মামলায় লাখ লাখ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বন্দি করা হয়েছে, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বেড়ে গেছে, সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। এই পরিস্থিতিতে বন্দিরা মনে করেছেন, এই নির্বাচন তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারা কর্তৃপক্ষ যদিও বলছেন—এনআইডি না থাকা ও জামিনের আশায় নিবন্ধন না করা—কিন্তু বাস্তবে এটি একটি রাজনৈতিক বয়কট।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেছেন, ভোটগ্রহণ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু নিবন্ধিত বাকি ১ হাজার ৪০২ জনও সম্ভবত ভোট দেবেন না। ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে (যেমন: সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু) কেউ কেউ নিবন্ধন করলেও অনেকে ভোট দেননি বা দিতে চাননি।
এই কম অংশগ্রহণ দেখে স্পষ্ট যে, ৫ আগস্টের পর থেকে যে অন্যায়-অত্যাচার-চাঁদাবাজির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে বন্দিরা এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি শুধু কারাগারের ভেতরের চিত্র নয়—দেশের সামগ্রিক অস্থিরতা ও অসন্তোষের প্রতিফলন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
(সূত্র: কারা অধিদপ্তর, আওয়ামীপন্থি আইনজীবী ও বিভিন্ন গণমাধ্যম)

