চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ভিসি ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। নতুন উপাচার্যের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলা তুমুল আন্দোলনের মধ্যেই এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এই নিয়োগ বাতিলের দাবি এবং সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই লাগাতার বিরোধিতার কারণে এতদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি নতুন ভিসি।
তবে আজ সকালে ছাত্রদল নেতাদের একটি অংশের সহায়তায় একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন ড. শেখ শরীফুল আলম। কেবল ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভিসি ভবনের আগের তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত ভিসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসিকে কার্যালয় ত্যাগ করার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আবারও ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং ভেতরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আন্দোলনকারী যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিরা তাজরীন জানান, ভিসি তাদের দেওয়া তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে তাকে আবারও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে ভিসি ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এর আগে সকালে ভিসিকে ফুল ও খাবার দিতে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসাইনকে বাধা দেন এবং তার আনা জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে দেন আন্দোলনকারীরা। ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে অবৈধভাবে আন্দোলন করছেন এবং তারা ভিসির সঙ্গেই ভেতরে অবস্থান করছেন।

