Infobangla অনলাইন ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর কন্যা জাইমা নূরের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্লগ ও ভিডিও কনটেন্টের মাধ্যমে বাবার পক্ষে প্রচারণা চালানোকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ঘোষিত মতাদর্শ ও বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার, নারীকে প্রকাশ্য রাজনীতির প্রচারণামুখী উপস্থাপন এবং তথাকথিত ‘ভ্লগ সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এসেছে। দলটির বহু নেতা অতীতে এসব মাধ্যমকে “নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ” হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। জামায়াত প্রার্থীর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা জাইমা নূর ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ভিডিও ভ্লগ প্রকাশ করছেন, যেখানে তিনি সরাসরি বাবার নির্বাচনী ইশতেহার, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরছেন। এসব ভিডিওতে আধুনিক ভ্লগিং স্টাইল, ক্যামেরার সামনে সরাসরি বক্তব্য এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচার দেখা যাচ্ছে—যা জামায়াতের প্রচলিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন অনেকে।
একটি ভিডিওতে জাইমা নূর মহানন্দা নদীর পাশে দাঁড়িয়ে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের আদলে ‘রিভার ড্রাইভ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। সমালোচকদের মতে, উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নয়, বরং যেভাবে এবং যে মাধ্যম ব্যবহার করে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে, সেটিই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি জামায়াতের “নীতিগত অবস্থান বনাম ভোট বাস্তবতা”-র স্পষ্ট উদাহরণ। একদিকে দলটি প্রকাশ্যে সামাজিক মাধ্যম ও আধুনিক সাংস্কৃতিক প্রবণতার বিরোধিতা করে, অন্যদিকে ভোটের প্রয়োজনে ঠিক সেই মাধ্যমকেই ব্যবহার করছে—তাও আবার নারী মুখকে সামনে রেখে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কৌশল বললেও, অনেকেই একে দ্বিচারিতা ও আদর্শিক সুবিধাবাদের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

