Infobangla নিউজ ডেস্ক | আপডেট : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আইনি সাফল্য অর্জিত হয়েছে। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ে বাংলাদেশের পক্ষেই রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ICSID) পেট্রোবাংলাকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সুদৃঢ় আইনি অবস্থান, ধৈর্যশীল কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকারের ফলেই এই ঐতিহাসিক বিজয় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) Infobangla-কে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ইকসিডের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘনের জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় নৈতিক ও আইনি বিজয়।
কী বলছে রায়
পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়,
• গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার
• পরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার
পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নাইকোকে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য এটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং পরিবেশ ও স্থাপনার মারাত্মক ক্ষতি হয়।
নাইকোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় আইনি লড়াই জোরদার করা হয়—দেশীয় আদালত থেকে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক আদালতের পর্যবেক্ষণ
ইকসিডের রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
• খনন কার্যক্রম ছিল নাইকোর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে
• আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি
• প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়াতেই বিস্ফোরণ ঘটে
ফলে নাইকো সরাসরি দায়ী এবং ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে।
“ইকসিডের রায় পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। এখন আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে,”—বলেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অধিকার আদায়ে সক্ষম

