পদত্যাগের দুই মাস পরও সরকারি বাসা ছাড়নি আসিফ ও মাহফুজ

Infobangla ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পার হলেও এখনো সরকারি বাসা ছাড়েননি দুই সাবেক ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম—এমন তথ্য উঠে এসেছে।

মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের আগেই মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, তিনি প্রায় এক মাস আগে সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের ব্যক্তিগত বাসায় বসবাস করছেন।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বুধবার রাতে হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ‘নিলয়-৬’-এ গিয়ে দায়িত্বরত একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসিফ মাহমুদ এখনো ওই বাসা ব্যবহার করছেন। সেখানে কর্মরত এক কর্মচারী বলেন,

“স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি।”

পাশের একটি সরকারি বাসায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও জানান, আসিফ মাহমুদ নিয়মিত সেখানে আসেন, কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে। পরদিন, ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

সে হিসাবে পদত্যাগের পর প্রায় ৫০ দিন ধরে তারা সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার রাতে আসিফ মাহমুদ বলেন,

“আমি সরকারি বাসায় থাকি না। প্রায় এক মাস আগে বাসা ছেড়ে পরিবাগে চলে এসেছি।”

অন্যদিকে মাহফুজ আলম বর্তমানে হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে অবস্থান করছেন। কবে বাসা ছাড়বেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,

“নীতিমালায় উপদেষ্টাদের বাসা ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় বলা নেই। তবে নির্বাচনের আগেই আমি বাসা ছেড়ে দেব।”

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক দুই উপদেষ্টা এখনো সরকারি বাসা ছাড়েননি। তিনি বলেন,

“আমি বিষয়টি সচিব স্যারকে অবহিত করেছি। এখন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসর বা বদলির পর সর্বোচ্চ দুই মাস সরকারি বাসায় থাকার সুযোগ থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে নীতিমালায় নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ নেই।

পদত্যাগের পরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করায় নীতি-নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার Infobangla-কে বলেন,

“রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে সঙ্গে সঙ্গে সরকারি সুবিধা ত্যাগ করাই নৈতিকতার পরিচয়। অতীতে এর উদাহরণ রয়েছে। বর্তমান চর্চা আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের দিকটাই তুলে ধরে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সময় থেকে আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিয়োগ পেয়ে পরে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *