আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া সফরের সময় সে দেশের বিতর্কিত এবং মানব পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি অনির্ধারিত ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ (Bloomberg)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত জুন মাসে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল প্যালেসে (জাতীয় প্রাসাদ) এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন তাঁর মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছিলেন, ঠিক তার আগমুহূর্তে এই অনানুষ্ঠানিক জমায়েতটি হয়।
ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী আর. রামানান (R. Ramanan) উপস্থিত ছিলেন। তবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলামের উপস্থিতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ বা নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা প্রাসাদে উপস্থিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সাথে সৌজন্য বিনিময় করেছেন, তবে সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে আমিনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
কে এই আমিনুল ইসলাম? আমিনুল ইসলাম (যিনি ‘আমিন’ নামে পরিচিত) মালয়েশিয়ার শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থাপনার বিতর্কিত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘বেস্টিনেট’ (Bestinet)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের পুলিশ মালয়েশিয়া সরকারকে বেস্টিনেটের সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিল। একই সাথে আমিনের বিরুদ্ধে অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও মানব পাচারের অভিযোগে তাঁকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের (Extradition) দাবিও জানানো হয়েছিল।
শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা ও বিতর্ক ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মালয়েশিয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর এই সফরে মালয়েশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে জনশক্তি রপ্তানি এবং এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের চরম দুর্নীতি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং শ্রমিকদের ঋণের জালে আটকে পড়ার বিষয়টি দুই দেশেই দীর্ঘদিনের একটি বড় বিতর্কের বিষয়। ঠিক এমন একটি সময়ে শ্রমবাজার চালুর আলোচনার সমান্তরালে এই অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সাথে বৈঠকের খবরটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

