নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ’ ও এর রায়কে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাজার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির দাবি, এই বিচার ব্যবস্থার কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই এবং এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার একটি নগ্ন মাধ্যম।
বুধবার (১ জুলাই/২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রলীগ উল্লেখ করে, যে আদালতের ভিত্তি অবৈধ এবং বিচারকের নিয়োগ অসাংবিধানিক, সেই আদালতের রায় কোনো বিচার নয়। এই রায়ের কোনো আইনি নজির বা ন্যায়ের ভিত্তি নেই, বরং এর পেছনে রয়েছে সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা।
বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক নিধনের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার একই উদ্দেশ্য পূরণে এই হাতিয়ার ব্যবহার করছে। শুধু মুখোশ বদলেছে, কিন্তু ষড়যন্ত্রের চরিত্র বদলায়নি।
ছাত্রলীগ আরও দাবি করে, জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রহসনমূলক ফাঁসির রায় এবং হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণহীন সাজা দেওয়ার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী প্রতিটি কণ্ঠকে আইনি মোড়কে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত অভিযান।
বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— জননেত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুসহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেওয়া ‘অবৈধ রায়’ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে; আইসিটি ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে; রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, যারা আজ বিচারের নামে এই প্রহসনের আয়োজন করছে, ইতিহাস একদিন তাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। সেই দিনটিকে ত্বরান্বিত করতে এবং রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সচেষ্ট রয়েছে।

