প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে ওয়াশিংটন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায়
ইনফোবাংলা বিশেষ প্রতিবেদন, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম “দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট” “বাংলাদেশে একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দলের সাথে বন্ধুত্ব চায় যুক্তরাষ্ট্র” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় নারী সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত “অফ-দ্য-রেকর্ড” বৈঠকের একটি অডিও রেকর্ডের বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করে সংবাদপত্রটি। তবে নিরাপত্তার কারণে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সেখানে ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক ব্যাখ্যা করছেন, কিভাবে ওয়াশিংটন জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ত হতে চায়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে প্রভাব প্রতিষ্ঠায় এবং নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জামায়াত তাদের প্রথম পছন্দ বলে পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায় অডিও রেকর্ডটি থেকে।
১ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ধারণকৃত ওই অডিও রেকর্ডে “আমরা তাদের(জামায়াত) বন্ধু হিসেবে চাই” বলতে গিয়ে তাদের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনকে তাদের অনুষ্ঠানে আনতে রাজি হবেন কিনা উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান ওই কূটনীতিক। জামায়াতকে নিয়ে যে শঙ্কা সাধারণত পশ্চিমারা করে থাকেন, শরীয়া আইন বাস্তবায়ন এবং নারীদের সীমাবদ্ধ করে রাখার, সেটিকে নাকচ করে দিয়ে বলতে শোনা যায়, দলটির নেতারা উদ্বেগজনক পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই তাদের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো করলে আর কোন অর্ডার থাকবে না, অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।
জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রেভিত্তিক মুখপাত্র মতিয়ার রহমান এ বিষয়ে বলেন, “ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে কথিত মন্তব্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না।” ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামী ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে চারটি বৈঠক করেছে এবং ঢাকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানান মতিয়ার রহমান। শুক্রবার দলটির নেতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গিয়ারের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠকও করেন।
“জামায়াত তার ঐতিহাসিক শরীয়াভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রক্ষনশীল নীতি থেকে সরে আসার মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি এবং নির্দেশনা মেনে, ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ঢাকায় অনুষ্ঠিত পোপ ফেস্ট এ জামায়াত আমিরের “মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ” এর বার্তা নিয়ে সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের যোগদান একই সূত্রে গাঁথা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা নীতির অংশ হয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রেরণ, মানবিক করিডোর, এবং বন্দর হস্তান্তরের মত স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যু গুলোতে জামাতের নিরব সমর্থন নিয়ে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে ওয়াশিংটন পোস্টের এই সংবাদ।….”আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে চাই, কারণ আমরা চাইলে ফোন তুলে বলতে পারি- “আপনি এইমাত্র যা বললেন, সেটির পরিণতি এভাবেই ভোগ করতে হবে” যুক্ত করেন ওই কূটনীতিক।“
ঢাকার দূতাবাসের ওই বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তা জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মত অন্যান্য রক্ষণশীল ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেন, তারা ক্ষমতায় এসে যদি ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, তবে বাংলাদেশের বিশাল পোশাক শিল্পের উপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিবে যুক্তরাষ্ট্র। “আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে চাই, কারণ আমরা চাইলে ফোন তুলে বলতে পারি- “আপনি এইমাত্র যা বললেন, সেটির পরিণতি এভাবেই ভোগ করতে হবে” যুক্ত করেন ওই কূটনীতিক।


ডিসেম্বরের ওই বৈঠকে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, “হাসিনার দণ্ডাদেশ ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কৌশলী।” তিনি স্বীকার করেন ট্রাইব্যুনালটি “মুক্ত ও ন্যায্য” ছিল না। তারপরও এ কাজের প্রশংসা করতে শোনা যায় তাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত তার ঐতিহাসিক শরীয়াভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও রক্ষনশীল নীতি থেকে সরে আসার মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি এবং নির্দেশনা মেনে, ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ঢাকায় অনুষ্ঠিত পোপ ফেস্ট এ জামায়াত আমিরের “মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ” এর বার্তা নিয়ে সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের যোগদান একই সূত্রে গাঁথা বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা নীতির অংশ হয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী মানুষদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রেরণ, মানবিক করিডোর, এবং বন্দর হস্তান্তরের মত স্পর্শকাতর জাতীয় ইস্যু গুলোতে জামাতের নিরব সমর্থন নিয়ে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক করেছে ওয়াশিংটন পোস্টের এই সংবাদ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পূর্বে শেখ হাসিনা পুত্র জয়ও জামায়াত নেতাদের মার্কিন দূতাবাসে অস্বাভাবিক যাতায়াতের প্রশ্ন তুলেন।
যুক্তরাষ্ট্র যে জামায়াতকে বন্ধু হিসেবে চায় সেটা আদর্শিক কোন মিলের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ কম। বরং এটি একধরনের শর্তসাপেক্ষে সম্পর্ক। যার অন্তরালে রয়েছে উভয়ের স্বার্থ, যা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ বলে আশংকা করছেন অনেকে। তূলনামূলক কম জনসমর্থন যা কখনোই সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয় এরপরও সরকার গঠনের আত্মবিশ্বাসী জামায়াতকে অনেক ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করতে দেখা যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেট নীতির হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রথমদিকে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে দিয়ে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ডিপ স্টেট এর কুশীলবরা, সেজন্য তারা জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে দিয়ে নিজেদের নীতির বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যা সহ ধর্ষণ নির্যাতনের মত ঐতিহাসিক দায় জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণই।
ইনফোবাংলা/

