নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড কার্যত সীমিত রয়েছে। তবে দলটির এই সাময়িক নীরবতার মাঝেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ নড়াচড়া।
নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কমনওয়েলথের নবনিযুক্ত মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
শুধু কমনওয়েলথ-ই নয়, গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং পশ্চিমা ও আঞ্চলিক বিদেশি কূটনৈতিক মহলও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাড়াতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের এই আকস্মিক ও জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও এই চিঠির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, কমনওয়েলথ মহাসচিবের এই বার্তা এবং অন্যান্য বিদেশি মিশনগুলোর সাম্প্রতিক যোগাযোগ মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ধারা নিশ্চিত করার অংশ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দল আওয়ামী লীগকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা বারবারই একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ও সর্বজনীন রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর জোর দিয়ে আসছে। ওবায়দুল কাদেরের কাছে পাঠানো এই চিঠি তারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে যে একধরণের গভীর শূন্যতা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আজ সর্বজনবিদিত। দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতার ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটি অভিজ্ঞ ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি এখন সময়ের দাবি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে—”একটি দেশের সুস্থ ধারার রাজনীতি কখনোই কোনো প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে বা মাইনাস ফর্মুলায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে দীর্ঘ উন্নয়ন অভিযাত্রায় আওয়ামী লীগের অবদান ও তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত এর বিশাল ভোটব্যাংককে অস্বীকার করে দেশের রাজনীতিতে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।”
চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহুমাত্রিক সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগের সক্রিয় প্রত্যাবর্তন আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ, অহিংস এবং সুস্থ ধারার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দলটির বিকল্প নেই—আন্তর্জাতিক মহলের এই নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ মূলত সেই বাস্তব সত্যকেই পুনর্ব্যক্ত করছে।
দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগকে মাঠের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হলেও, বিশ্ব দরবারে দলটির গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা এই চিঠি এবং বিদেশি দূতদের ঘনঘন যোগাযোগেই স্পষ্ট।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কতটা জরুরি, বিশ্ব সম্প্রদায় তা পুনরায় অনুধাবন করতে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই নতুন স্বস্তিদায়ক বার্তা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে দিতে পারে। রাজনীতিতে তৈরি হওয়া বর্তমান শূন্যতা পূরণ করে একটি কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে আওয়ামী লীগের মূল ধারায় ফেরার প্রক্রিয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

