২১ জানুয়ারি ২০২৬ | জাতীয় | Infobangla
ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ (Infobangla):
আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই চার্টার’ সংক্রান্ত গণভোট (রেফারেন্ডাম) আয়োজনের বৈধতা নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়ার নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞ আইনজীবী বুধবার হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটটি দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও নাগরিক নাদিম আহমেদের পক্ষে। রিটে বলা হয়েছে, এই আবেদন সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে দায়ের করা হয়েছে এবং এর মূল লক্ষ্য হলো সাংবিধানিক শাসন, নির্বাচনী নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটলেও কমিশন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নির্বাচন আচরণবিধি ও ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের বিষয়টি রিটে তুলে ধরা হয়েছে।
রিটে উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও উপদেষ্টারা—যাদের নিরপেক্ষ থাকার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও প্রশাসনিক যন্ত্র ব্যবহার করে গণভোটের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফলাফলের পক্ষে প্রচারণার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্য-প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দেওয়া হলেও কমিশন কোনো অর্থপূর্ণ বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এছাড়া একই দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্তকেও সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, একই দিনে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে, নির্বাচনী ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সমতল মাঠ নিশ্চিত করে না।
আইনজীবী দলের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া Infobangla-কে বলেন,
“এই রিট কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্বাহী হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে একটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ। যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশকে প্রভাবিত করে, তখন গণতন্ত্রই ঝুঁকির মুখে পড়ে।”
রিটে আদালতের কাছে যেসব প্রতিকার চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তাকে অবৈধ ও আইনগত প্রভাবশূন্য ঘোষণা করা
- বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রদান
- নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
- নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং মুক্ত, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য আদেশ প্রদান
এই রিট আবেদনের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট তামান্না ফেরদৌস, অ্যাডভোকেট ফারজানা রহমান শম্পা, অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস, অ্যাডভোকেট সায়েম মোহাম্মদ মুরাদ, অ্যাডভোকেট মুহতাদি হোসেন, অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ রনি, অ্যাডভোকেট নাহিদ ইসলাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার দাস এবং অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শিমুল।
Infobangla পর্যবেক্ষণ করছে, এই রিটের শুনানি ও আদালতের নির্দেশনা আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

