স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আদামুজে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গত রোববার রাতে মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ‘ইরিও’ কোম্পানির একটি হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে উভয় ট্রেনই লাইনচ্যুত হয়। ২০১৩ সালের পর এটিই স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। ওই বছর সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলার কাছে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৮০ জন।
দুর্ঘটনার পরদিন সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “আজ পুরো স্পেনের জন্য শোকের দিন। আমরা এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করব এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরব।”
Iআন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারপ্রধান হুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ৩৯ থেকে বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ এখনো চলমান থাকায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত হতে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুর্ঘটনাস্থলে ভারী যন্ত্রপাতি এনে ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানোর কাজ চলছে, যাতে উদ্ধারকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাতে পারেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২০ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন কর্দোবার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ও তথ্য শেয়ার করছেন।
গার্দিয়া সিভিল পুলিশের আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষের পর দুই ট্রেন দূরে ছিটকে পড়ে আছে এবং চারপাশে উদ্ধারকর্মীরা তৎপরভাবে কাজ করছেন।
কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাটি কোনো বাঁকে নয়, বরং সোজা লাইনে ঘটেছে এবং দুটি ট্রেনই নির্ধারিত গতিসীমার মধ্যেই চলছিল। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, লাইনচ্যুত হওয়া প্রথম ট্রেনটি প্রায় নতুন ছিল এবং যে ট্র্যাকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিও সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। এ কারণে ঘটনাটিকে তিনি ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইরিও’ জানিয়েছে, তাদের ট্রেনটি ২০২২ সালে নির্মিত এবং দুর্ঘটনার মাত্র তিন দিন আগেই সেটির কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছিল। অজানা কারণে ট্রেনটি পাশের লাইনে চলে যায়। ওই ট্রেনে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে হুয়েলভাগামী রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি রেনফের ট্রেনটিতে যাত্রী ছিলেন ১৮৪ জন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

