নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীসহ সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই থামছে না। প্রতিনিয়তই দেশের কোথাও না কোথাও শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ও প্রাণহানির খবর আসছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ১ জন ল্যাব-পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশব্যাপী হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই ১০ শিশুর মৃত্যু হয়। হঠাৎ করে হামের এই প্রাদুর্ভাব ভাবিয়ে তুলছে অভিভাবক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৭২ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে। অর্থাৎ আড়াই মাসেরও কম সময়ে এই বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মোট মৃতের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশই পুরোপুরি শনাক্ত হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৬৭ শিশু এবং শরীরে হামের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৮৮ শিশু।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের অনেকের মধ্যেই তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা, সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করায় এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল ও অসচেতন পরিবারের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
দেশজুড়ে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, সময়মতো হামের টিকা (এমআর টিকা) না নেওয়া এবং আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সাধারণ জ্বর মনে করে ঘরে বসিয়ে রাখার কারণে জটিলতা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার এবং আইসোলেশনে রাখার জোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

