ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ কামরুল ইসলাম (৭৬) একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ এই বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাকে গত ৩০ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কোর্টে নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—‘তিনি কোর্টে যেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন’, ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার বলে কোনো রোগ নেই’, ‘রোগের ভুয়া ডকুমেন্টস দিয়েছেন’ কিংবা ‘কারাগারে বসে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা নিচ্ছেন’—এমন নানা দাবি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ অবস্থায় কামরুল ইসলামকে কোর্টে নেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে গেলে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের অনুমোদন দেখতে চান এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে কোর্টে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ কারণে কিছু সময় বিলম্ব ঘটে। কিন্তু পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না হওয়ায় তাঁকে প্রিজন ভ্যানে করেই কোর্টে নেওয়া হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কামরুল ইসলামের পাকস্থলীর ক্যান্সার (গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার) ২০১৭ সালে ঢাকার এপোলো হাসপাতাল (বর্তমান এভারকেয়ার) এ শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি সিঙ্গাপুরে অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ক্যান্সার চিকিৎসার পর নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ফলো-আপে ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের অনকোলজিস্ট এবং ঢাকার একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত, তারা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হয়ে জরুরি ভিত্তিতে ফলো-আপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি মেডিকেল সামারি প্রদান করেন। তবে এই বিষয়টিকেই ‘কারাগারে বসে চিকিৎসা গ্রহণ’ বা ‘ভুয়া ডকুমেন্টস’ হিসেবে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও, কামরুল ইসলাম গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার ছাড়াও রক্তশূন্যতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি হ্রাস) এবং চর্মরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

