নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘রূপপুর’-এর প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ সফলভাবে শুরু হয়েছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের এই ক্রান্তিকালে এই অর্জনকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ‘আশার সবচেয়ে বড় আলো’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞ মহল ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আনিস আলমগীর এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দূরদর্শী পরিকল্পনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, রূপপুর কেবল একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতার এক অনন্য স্মারক।
আমদানিনির্ভরতা থেকে উত্তরণের পথ
বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ভারতের আদানি গ্রুপের (ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা প্ল্যান্ট) অবদান অনস্বীকার্য। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
• আদানির গোড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
• সাম্প্রতিক যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে নতুন করে আরও ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে, যা লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছে।
তবে জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করেন, আদানির বিদ্যুৎ সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য রূপপুরের মতো নিজস্ব বড় উৎসের বিকল্প নেই। সাংবাদিক আনিস আলমগীর তার সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন, জুলাই-আগস্ট নাগাদ রূপপুর থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে আমদানিকৃত বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হবে।
কেন রূপপুর ‘গেম-চেইঞ্জার’?
রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পটির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে এর মূল প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো:
• উৎপাদন ক্ষমতা: দুই ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।
• অর্থনৈতিক সাশ্রয়: আমদানিকৃত জ্বালানির (তেল/গ্যাস) ওপর নির্ভরতা কমবে, সাশ্রয় হবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
• পরিবেশবান্ধব: কার্বন নিঃসরণ শূন্য হওয়ায় এটি পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
• স্থায়িত্ব: এই প্ল্যান্টের আয়ুষ্কাল হবে কমপক্ষে ৬০-৮০ বছর।
শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও আগামীর বাংলাদেশ
পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পরমাণু ক্লাবে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য শেখ হাসিনা সরকারের সাহসী নেতৃত্বের প্রশংসা করে আনিস আলমগীর বলেন, এটি আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার এক স্থায়ী সমাধান।
সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ মাত্রায় যুক্ত হবে। এর ফলে শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে গৃহস্থালিতেও বিদ্যুতের হাহাকার মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। এটি কেবল বিদ্যুৎ দেবে না, বরং ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

