নিজস্ব প্রতিবেদক | রূপপুর, পাবনা
বাঙালির স্বপ্ন এখন আর কেবল আকাশছোঁয়া নয়, তা এখন পরমাণুর শক্তিতে বলীয়ান। আজ পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা পরমাণু জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করল বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের অভিজাত ক্লাবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অদম্য সাহসিকতার ফলেই আজ উত্তরবঙ্গের এই জনপদে জ্বলে উঠছে পরমাণু বিদ্যুতের আলো। দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী অধ্যায়।
১৯৬১ সালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে ছিল দীর্ঘকাল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর এই প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর অনীহায় তা থমকে যায়। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন এবং রাশিয়ার সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে একসময়ের অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দান করেন।
আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যত একটি পারমাণবিক স্থাপনায় পরিণত হলো। রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি থেকে দুটি ইউনিটে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এটি কেবল বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাবে না, বরং স্বল্প খরচে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে।
শেখ হাসিনার আপোষহীন মনোভাব এবং রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ফলেই পারমাণবিক শক্তির এই স্বপ্ন আজ ধুলোবালি ছেড়ে বাস্তবে রূপ নিলো। এটি কেবল একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, এটি একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতীক। উত্তরবঙ্গের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানে এই কেন্দ্রটি এক অভাবনীয় বিপ্লব নিয়ে আসবে। আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও বৈশ্বিক প্রযুক্তির মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম আজ অনন্য উচ্চতায়।
রূপপুরের আকাশে আজ যে নতুন ভোরের সূর্য উদিত হয়েছে, তার প্রতিটি রশ্মিতে মিশে আছে শেখ হাসিনার অবিচল নেতৃত্বের ছাপ। কৃতজ্ঞচিত্তে দেশবাসী আজ স্মরণ করছে সেই সাহসী সিদ্ধান্তকে, যা একটি জাতিকে অন্ধকার থেকে পরমাণু বিদ্যুতের উদ্ভাসিত আলোর পথে নিয়ে এল।

