জালে ইলিশের ‘বন্যা’, বাজারে দামের খেলা! বৈশাখের আগে হতাশ মধ্যবিত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি যেন এখন রুপালি শস্যের খনি। জেলি ফিশের উপদ্রব আর জ্বালানি সংকটের মেঘ কাটিয়ে চট্টগ্রাম উপকূলে বইছে ইলিশের উৎসব। মৎস্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের তুলনায় ইলিশ আহরণ বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু এই রূপালি ঝিলিক এখনো সাধারণ মানুষের হেঁশেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না; সাগরে জোগান বাড়লেও বাজারের ‘আগুন’ দাম অপরিবর্তিত।

সরকারি তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ইলিশ আহরণ গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাসে আহরণের চিত্রটি ছিল চমকপ্রদ:

• ২০২৪-২৫ (মার্চ): মাত্র ৫০ টন।

• ২০২৫-২৬ (মার্চ): প্রায় ৫০৮ টন (অর্থাৎ ১০ গুণ বৃদ্ধি!)।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপকূলের জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। কুতুবদিয়া চ্যানেল ও সাঙ্গু নদ থেকে শুধু মার্চ মাসেই আহরিত হয়েছে ১৬৭ টন মাছ।

আহরণ বাড়লে দাম কমার চিরাচরিত নিয়ম খাটছে না এবারের বৈশাখী বাজারে। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে ইলিশের দাম উল্টো ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ ১৩ এপ্রিল, সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী কমপ্লেক্স বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ১,১০০ থেকে ২,৪০০ টাকা পর্যন্ত।

পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে ইলিশের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দাম রাখা রুখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানিয়েছেন, বাজার ও আড়তগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনো অসাধু চক্র মজুতদারি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকৃতি দুহাত ভরে দিলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আর মৌসুমী চাহিদার মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষের কাছে ইলিশ যেন এক দূর আকাশের তারা। সাগরে ইলিশের আধিক্য শেষ পর্যন্ত উৎসবের মৌসুমে মধ্যবিত্তের পাতে পৌঁছাবে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *