নিজস্ব প্রতিনিধি :
হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েরা যখন হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন, তখন নিয়মিত নাটক-সিনেমা উপভোগে ব্যস্ত সময় পার করার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর বিরুদ্ধে যা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, এবার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান-কে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডে শিশুদের অভিনীত একটি পথনাটক উপভোগ করতে দেখা গেছে তাকে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নাট্যপাড়ার একটি থিয়েটারে তিনি শিশুতোষ নাটক ‘কবি চিতাবাঘ’ উপভোগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যস্ত সূচির মাঝেও কিছুটা সময় বের করে পরিবারকে নিয়ে তিনি এই নাটক দেখতে যান। এর আগে গত ৩ এপ্রিল কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে একটি চলচ্চিত্রও উপভোগ করেছিলেন তিনি।
সংস্কৃতিকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে তার এই সংস্কৃতিপ্রেম অন্য একটি কারণে সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।
সম্প্রতি টিকা সংকটের কারণে দেশে হাম প্রায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১৭২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। এদের বেশিরভাগই ৬ মাস থেকে আড়াই বছরের কম বয়সী। প্রতিদিনই বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। অথচ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত শিশুদের দেখতে যাননি বা সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করেননি এ বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন সংকটময় সময়ে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়া বা নাট্যমঞ্চে উপস্থিত হওয়া সন্তানহারা মায়েদের কাছে বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করতে না পারলে একজন নেতা কীভাবে নিজেকে জননেতা দাবি করেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে, এই সংকটকালীন সময়ে অনেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সঙ্গে তুলনা টানছেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
উল্লেখ্য, দেশের সংকটময় সময়ে শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ছিল কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে করোনাকালে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পরিস্থিতি যেভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল, তা আজও জনগণের কাছে প্রশংসিত।

